Showing posts with label বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি. Show all posts
Showing posts with label বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি. Show all posts

শিশুদের কাছে স্মার্টফোন নিরাপদ রাখার কৌশল

শিশুদের কাছে স্মার্টফোন নিরাপদ রাখার কৌশল

প্রযুক্তির এই যুগে সবার হাতে হাতেই পৌঁছে গেছে স্মার্টফোন। এই সুযোগে শিশুরাও এখন স্মার্টফোন ব্যবহার করে গেম খেলা বা ভিডিও দেখার কাজ করছে। তবে স্মার্টফোনে শিশুরা ভুলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ডিলিট করে দিতে পারে। আবার স্মার্টফোনের এমন অনেক অ্যাপই হয়তো থাকতে পারে, যেগুলো শিশুদের উপযোগী নয়। এসব ক্ষেত্রে তাই শিশুদের কাছ থেকে স্মার্টফোনকে নিরাপদ রাখা প্রয়োজন। এর জন্যই প্রয়োজনীয় কিছু করণীয় তুলে ধরা হলো এই লেখায়।
অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ক্ষেত্রে
এই সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় স্মার্টফোন হিসেবে এককভাবে স্বীকৃত অ্যান্ড্রয়েড। ফলে স্মার্টফোন হিসেবে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় অ্যান্ড্রয়েডকেই। অ্যান্ড্রয়েডে গুগল প্লে স্টোরে গিয়ে বিভিন্ন অ্যাপ কেনার সুযোগ রয়েছে। আবার ইন-অ্যাপ পারচেজের সুযোগও রয়েছে। শিশুরা ভুলে এখানে গিয়ে না বুঝেই বিভিন্ন অ্যাপ কিনে ফেলতে পারে। আবার শিশুদের উপযোগী নয়, এমন অনেক অ্যাপও উন্মুক্ত থাকে প্লে স্টোরে। সেক্ষেত্রে গুগল প্লে স্টোর অ্যাপে গিয়ে মেন্যু ওপেন করতে হবে। সেখানে সেটিংয়ে গিয়ে কনটেন্ট ফিল্টারিংয়ে যেতে হবে। এখান থেকে আপনি ম্যাচুরিটি সেটিং নির্ধারণ করে দিতে পারবেন। হাই ম্যাচুরিটি কনটেন্ট নির্বাচন করে দিলে সাধারণত বিভিন্ন সহিংস অ্যাপও চলে আসবে। তাই এক্ষেত্রে লো ম্যাচুরিটি সেটিং নির্বাচন করে দিতে হবে। আবার গুগল প্লে সেটিং থেকেই বিভিন্ন কেনাকাটার জন্য পিনের প্রয়োজনীয়তা নির্বাচন করে দেওয়া যায়। সেক্ষেত্রে পিন বা পাসওয়ার্ড ছাড়া কেউই কিছু কিনতে পারবে না।
অ্যাপ লক
আপনার স্মার্টফোনে শিশু যাতে সব ধরনের অ্যাপে অ্যাকসেস না পায়, সেজন্য অ্যাপগুলোকে লক করেও রাখতে পারবেন। অ্যাপ লক নামের একটি অ্যাপ্লিকেশন এক্ষেত্রে আপনাকে সহায়তা করবে। এই অ্যাপ্লিকেশনটি আলাদা আলাদা করে প্রতিটি অ্যাপে প্রবেশের সুযোগকে বন্ধ রাখবে। ভয়েস কল, ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ, মোবাইল ডাটা প্রভৃতি ফিচার ব্যবহারেও প্রতিবন্ধকতা জারি রাখবে এই অ্যাপটি। এ ছাড়া গ্যালারির ফটো বা ভিডিওগুলোও লুকিয়ে রাখবে এই অ্যাপ।
আইওএস
অ্যান্ড্রয়েডের পরেই সবচেয়ে জনপ্রিয় মোবাইল ডিভাইস হলো অ্যাপলের আইওএস ডিভাইসগুলো। আইফোন, আইপ্যাড, আইপড টাচ প্রভৃতি ডিভাইস আইওএস-এর আওতাভুক্ত। এসব ডিভাইসেও প্যারেন্টাল কন্ট্রোল যুক্ত করা যায়। এজন্য এসব ডিভাইসের সেটিংয়ে গিয়ে জেনারেল থেকে যেতে হবে রেস্ট্রিকশনে। এখান থেকেই রেস্ট্রিকশন সক্রিয় করে দেওয়ার অপশন রয়েছে, রয়েছে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল কনফিগার করার সুযোগ। এখান থেকেই ডিভাইসের বিল্ট-ইন অ্যাপ (ক্যামেরা, আইটিউনস, ইন-অ্যাপ পারচেজ, অ্যাপ ইন্সটল, অ্যাপ ডিলিট প্রভৃতি), কনটেন্ট (থার্ড-পার্টি অ্যাপ, ওয়েবসাইট অ্যাকসেস প্রভৃতি), ফাংশনগুলোকে (অ্যাকাউন্ট সেটিং, লোকেশন সার্ভিস প্রভৃতি) নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। ফলে শিশু চাইলেই নিজের ইচ্ছেমতো কিছু করতে পারবে না।
উইন্ডোজ ফোন
উইন্ডোজ ফোনে শিশুদের জন্য আগে থেকেই কিড’স কর্নার তৈরি করে রাখার সুযোগ রয়েছে। এখানে শিশুদের জন্য আপনার অনুমোদিত অ্যাপ্লিকেশনগুলো রাখতে পারবেন আগে থেকেই। ফলে এখানে গিয়ে শিশুরা নির্ভাবনায় বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবে। এটি সক্রিয় ও কনফিগার করতে উইন্ডোজ ফোনের হোমস্ক্রিনে অ্যাপের তালিকা থেকে যেতে হবে সেটিংয়ে। সেখানেই পাবেন কিড’স কর্নার। এখানে গিয়ে আপনি নির্বাচন করে দিতে পারবেন শিশুরা কোন কোন অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবে। পাসওয়ার্ড দিয়ে এই অপশনগুলো সুরক্ষিতও রাখতে পারবেন।
এভাবেই আপনার স্মার্টফোনকে শিশুদের হাত থেকে নিরাপদ রাখতে পারবেন। সঠিকভাবে কনফিগার করতে পারলে আর শিশুদের উপযোগী নয় এমন কোনো কনটেন্টে শিশুরা প্রবেশ করতে পারবে না।

ওয়ালটনের নতুন স্মার্টফোন ‘প্রিমো ইএমটু’

ওয়ালটনের নতুন স্মার্টফোন ‘প্রিমো ইএমটু’

দেশে তৈরি আরেকটি সাশ্রয়ী মূল্যের স্মার্টফোন বাজারে ছাড়লো প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। আকর্ষণীয় ডিজাইনের মেটাল বডির ফোনটির মডেল ‘প্রিমো ইএমটু’। ৪ হাজার ৫৯৯ টাকা মূল্যের হ্যান্ডসেটটি নীল এবং কালো দুটি ভিন্ন রঙে দেশের সব ওয়ালটন প্লাজা, মোবাইল ফোন ব্র্যান্ড এবং রিটেইল আউটলেটে পাওয়া যাচ্ছে।
ওয়ালটন সেল্যুলার ফোন বিক্রয় বিভাগের প্রধান আসিফুর রহমান খান জানান, ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত এই স্মার্টফোনটি তৈরি হয়েছে গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের নিজস্ব কারখানায়।
ওয়ালটন সূত্রে জানা যায়, মেটালিক ডিজাইনের ‘প্রিমো ইএমটু’ মডেলের স্মার্টফোনটিতে ব্যবহৃত হয়েছে ৪.৯৫ ইঞ্চির ফুল ভিউ ডিসপ্লের এফডব্লিউভিজিএ প্লাস পর্দা। নতুন এই ফোনের উচ্চগতি নিশ্চিতে আছে ১.৩ গিগাহার্জের কোয়াডকোর প্রসেসর। রয়েছে ১ গিগাবাইট ডিডিআরথ্রি র‌্যাম। প্রাণবন্ত ভিডিও ও গেমিং অভিজ্ঞতা দিতে গ্রাফিক্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে মালি-টি৮২০। প্রয়োজনীয় ফাইল সংরক্ষণে রয়েছে ৮ গিগাবাইট স্টোরেজ। যা মাইক্রো এসডি কার্ডের মাধ্যমে ৬৪ জিবি পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।
এই স্মার্টফোনের উভয় প্রান্তে রয়েছে বিএসআই সেন্সরযুক্ত ৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। ক্যামেরার উল্লেখযোগ্য ফিচারের মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল জুম, ফেস বিউটি, এআই ডিটেক্ট, কালার ইফেক্ট, টাচিং ফটোগ্রাফি, অডিও পিকচার, কিউআর কোড স্ক্যানার, টাইম ল্যাপস ইত্যাদি।
অ্যানড্রয়েড ৮.১ ওরিও (গো এডিশন) অপারেটিং সিস্টেমে পরিচালিত স্মার্টফোনটির প্রয়োজনীয় পাওয়ার ব্যাক-আপের জন্য রয়েছে ২৯৩০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার লি-পলিমার ব্যাটারি। থ্রিজি সাপোর্টেড ফোনটিতে একসঙ্গে ব্যবহার করা যাবে দুটি সিম। কানেক্টিভিটির জন্য আছে ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ভার্সন ৪, ল্যান হটস্পট, ওটিএ ও মাইক্রো ইউএসবি২ সুবিধা। সেন্সর হিসেবে রয়েছে জিপিএস, এ-জিপিএস এক্সিলারোমিটার (থ্রিডি) ইত্যাদি। মাল্টিমিডিয়া ফিচার হিসেবে আছে ফুল এইচডি ভিডিও প্লে-ব্যাক ও রেকর্ডিং সুবিধাসহ এফএম রেডিও।
বাংলাদেশে তৈরি এই স্মার্টফোনে ক্রেতারা পাবেন বিশেষ রিপ্লেসমেন্ট সুবিধা। স্মার্টফোন কেনার ৩০ দিনের মধ্যে ত্রুটি দেখা দিলে ফোনটি পাল্টে ক্রেতাকে নতুন আরেকটি ফোন দেয়া হবে। এছাড়াও, ১০১ দিনের মধ্যে প্রায়োরিটি বেসিসে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ক্রেতা বিক্রয়োত্তর সেবা পাবেন। তাছাড়া, স্মার্টফোনে এক বছরের এবং ব্যাটারি ও চার্জারে ছয় মাসের বিক্রয়োত্তর সেবা তো থাকছেই।
উল্লেখ্য, দেশের সব ওয়ালটন প্লাজা এবং ব্র্যান্ড ও রিটেইল আউটলেটে ০% ইন্টারেস্টে ৬ মাসের ইএমআই সুবিধায় কেনা যায় সব মডেলের ওয়ালটন স্মার্টফোন। একই সঙ্গে ১২ মাসের কিস্তি সুবিধায়ও কেনার সুযোগ থাকছে। সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবার জন্য রয়েছে দেশব্যাপী বিস্তৃত সার্ভিস নেটওয়ার্ক।

এক মাসেও উদ্ধার হয়নি সাবেক এমপি মাহজাবিনের ফেসবুক আইডি-পেজ

এক মাসেও উদ্ধার হয়নি সাবেক এমপি মাহজাবিনের ফেসবুক আইডি-পেজ

সাবেক সংসদ সদস্য মাহজাবিন খালেদের ফেসবুক আইডি ও ভেরিফায়েড পেজ হ্যাকড হওয়ার এক মাস পরও উদ্ধার হয়নি। গত ২১ ফেব্রুয়ারি মাহজাবিনের ফেসবুক পেজ অন্যের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এ বিষয়ে থানায় জিডি করেছেন তিনি। 
মাহজাবিন খালেদ জানান, গত ২১ ফেব্রুয়ারি বিদেশে থাকা অবস্থায় তিনি ফেসবুকে ঢুকতে পারছিলেন না। ২৬ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরেও ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে না পেরে তিনি ২৭ ফেব্রুয়ারি গুলশান থানায় জিডি করেন।
তিনি বলেন, 'হ্যাকাররা আমাকে বলে, আইডি ফেরত চাইলে এক লাখ ২০ হাজার টাকা দিতে হবে। বিট কয়েন অথবা একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ওই টাকা শোধ করতে হবে। ওই ব্যাংকে মো. রফিক মিয়া নামে এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট নম্বরও তারা আমাকে দিয়েছে টাকা দেওয়ার জন্য।’
মুক্তিযুদ্ধে ২ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার খালেদ মোশাররফের মেয়ে মাহজাবিন জানান, পুলিশকে জানানোর পর তারা বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। 
নিজের ফেসবুক আইডি ও ভেরিফায়েড পেজ উদ্ধারে আইনি সহায়তার জন্য পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) অফিসেও গিয়েছিলেন মাহজাবিন।
তিনি বলেন, ‘সাইবার ক্রাইম ইউনিট থেকে আমাকে বলা হয়েছে, হ্যাক হওয়া আইডির সব তথ্য হ্যাকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় এখন হ্যাকারকেই আইডির প্রকৃত মালিক মনে করছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। ফলে বিষয়টি সমাধানে বেশি সময় লাগছে। তবে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শিগগরিই উদ্ধার হবে বলে আশা দিয়েছেন।’ 
এ দিকে মাহজাবিনের হ্যাকড হওয়া ফেসবুক পেজ ও আইডি থেকে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ফলে এক ধরনের উদ্বেগের মধ্যে আছেন বলেও জানান।  
মাহজাবিন খালেদ বলেন, ‘হ্যাকার শুধু পেজ হ্যাক করেই বসে নেই। ওই পেজ থেকে সরকার ও আওয়ামী লীগ বিরোধী বিভিন্ন পোস্ট দিচ্ছে; যা আমার জন্য বিব্রতকর এবং অসম্মানজনক। হ্যাকার কখন কি পোস্ট দেয় এই দুশ্চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারি না। আমি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছি।’ 
তিনি বলেন, ‘যদি এই আইডি-পেজ উদ্ধার করা সম্ভব না হয়, তাহলে এগুলো একেবারে বন্ধ করা গেলেও মানসিক শান্তি পাই।’ 

উইন্ডোজ ৮ এর স্পীড বাড়ানোর জন্য ৮টি টিপস

উইন্ডোজ ৮ এর স্পীড বাড়ানোর জন্য ৮টি টিপস

আপনারা যারা উইন্ডোজ ৮ ব্যাবহার করছেন তারা দেখেছেন উইন্ডোজের অন্যান্য ভার্সনগুলো থেকে উইন্ডোজ ৮ এর বুট স্পীড অনেক দ্রুত করা হয়েছে এর Desktopটি অন্যান্য উইন্ডোজ ভার্সন থেকে আলাদা এবং এইটা দেখতে অনেক সুন্দর তবে এটা কিছু গ্রাফিক্যাল সুবিধা দেওয়ার কারণে কিছুটা স্লো মনে হতে পারে কিন্তু এর বিভিন্ন সেটিংস আছে যেটা দিয়ে আপনি খুব সহজে এর গতিকে  আরও অনেক বেশি দ্রুততর করতে পারবেন আমি এখানে  আপনাদের কিছু টিপস দিচ্ছি যেগুলো উইন্ডোজের গতি  বাড়াতে সাহায্য করবে।

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন 

সংজ্ঞা বদলাবে, গতি বাড়বে তো ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের?

সংজ্ঞা বদলাবে, গতি বাড়বে তো ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের?


আবারও সংজ্ঞা বদলাচ্ছে ব্রডব্যান্ড (উচ্চগতি)ইন্টারনেটের। তবে এবার গতি বদলাবে তো- গত কয়েকদিন ধরে এমন প্রশ্ন ঘুরছে দেশের প্রযুক্তি অঙ্গনে। এমনিতেই ধীর গতির ইন্টারনেট নিয়ে প্রযুক্তিপ্রেমীদের ভোগান্তির অন্ত নেই। তারপরও এমন ঘোষণায় প্রযুক্তিপ্রেমীদের ততটা খুশি হতে দেখা যাচ্ছে না। এর আগেও একবার সংজ্ঞা বদলেছিল কিন্তু প্রযুক্তিপ্রেমীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত গতি পায়নি। তাদের ভাষ্য, ব্রডব্যান্ডের সংজ্ঞায় পরিবর্তন না এনে বরং প্রকৃত অর্থে ‘গতি’ পেলেই তারা খুশি।

প্রসঙ্গত,ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ন্যূনতম গতি ১ মেগা থেকে বাড়িয়ে ৫ মেগা করতে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিগগিরই এ বিষয় চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে বলে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) সূত্রে জানা গেছে। গত বছর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিসিসি ভবনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ঘোষণা দিয়েছিলেন, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনা হবে। এর ন্যূনতম গতি হবে ৫ মেগাবাইট। সরকার এ বিষয়ে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানা গেছে।

বিএসসিসিএল-এর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে জানিয়ে দিয়েছে নির্দেশনা জারির সঙ্গে সঙ্গে তা কার্যকর করতে। কেউ ব্রডব্যান্ডের নামে এর চেয়ে কম গতি দিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ৩ মার্চ দেশে আসবেন। ৪ বা ৫ মার্চের দিকে সরকারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মূলত ওই বৈঠক থেকেই ঘোষণা আসতে পারে কবে থেকে কার্যকর হচ্ছে ৫ মেগার ব্রডব্যান্ড।

জানা যায়, আগামী ৩-৫ মার্চ ঢাকায় আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে দেশে তথ্যপ্রযুক্তি বৃহৎ আয়োজন ‘বাংলাদেশ আইসিটি এক্সপো-২০১৬’ অনুষ্ঠিত হবে। ওই মেগা আয়োজন থেকেও এই সুখবর দেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দাবি করেছে।

এদিকে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহাজাহান মাহমুদ জানিয়েছেন,‘৫ মেগার নিচে ব্রডব্যান্ড নয়’ ঘোষণা আসতে ২-৩ সপ্তাহ লেগে যেতে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সর্বনিম্ন গতি ১ এমবিপিএস। ঘোষণা এলে তা হয়ে যাবে ৫ এমবিপিএস। তবে ৫ এমবিপিএসের কম গতির ইন্টারনেট সংযোগকে ‘ন্যারোব্যান্ড’ বা ধীরগতির ইন্টারনেট হিসেবে বিবেচনা করবে সরকার। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ বলছে, গ্রাহক পর্যায়ে দ্রুতগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করতেই ব্রডব্যান্ডের সর্বনিম্ন গতি বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বিটিআরসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২৫ লাখ ৯৪ হাজার। ২০১৫ এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ১২ লাখ ৮৩ হাজার।

এদিকে সরকার জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালা করেছে ২০০৯ সালে। ৭ বছর হয়ে গেলেও সেই নীতিমালা হালনাগাদ করা হয়নি। জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালা-২০০৯ -এ ব্রডব্যান্ডের সংজ্ঞায় বলা হয়েছিল, ‘যাহার ন্যূনতম গতি হবে ১২৮ কেবিপিএস। এর চেয়ে গতি কম হইলে তাকে বলা হইবে ন্যারোব্যান্ড ইন্টারনেট।’ যদিও ২০১৩ সালে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির জারি করা এক নিদের্শনায় নতুন করে ব্রডব্যান্ডের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়। নতুন সংজ্ঞায় বলা হয়, 'যাহার ন্যূনতম ব্যান্ডউইথ ১ এমবিপিএস (মেগাবাইট পার সেকেন্ড) হইবে। ১ এমবিপিএস হইতে কম ব্যান্ডউইথকে ন্যারোব্যান্ড বলা হইবে।' ব্যক্তি পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ২০১৩ সালের মে মাসের ১ তারিখ থেকে এই গতি উপভোগ করছেন। বিটিআরসি একই বছরের এপ্রিলের ১ তারিখে এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করে।

২০১৬ সালে আবারও ব্রডব্যান্ডের সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এবার ন্যূনতম ব্যান্ডউইথ ১ মেগার পরিবর্তে ৫ মেগা করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।